রাজনীতি

Home রাজনীতি

নাশকতা মামলায় বিএনপি নেতা হাবিব-উন নবী খান সোহেল আটক

একাত্তর নিউজ ডেস্কঃবিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে গত জানুয়ারি মাসে করা একটি নাশকতার মামলায় ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গুলশান  দুই নম্বর চত্বর এলাকা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তাকে আটক করে গুলশান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সোহেলকে আটকের পর বিএনপি নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, আমরা সংবাদ পেয়েছি যে, হাবিব-উন নবী সোহেলকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে। সে এখন গুলশান থানায় আছে।

ডিএমপির উপ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশ গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে।

সোহেলের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে খুঁজছিল পুলিশ। শান্তিনগরে তার বাড়িতে একাধিকবার পুলিশ তল্লাশিও চালায়।

সোহেলকে গত ১ সেপ্টেম্বর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় দেখা গিয়েছিল।

পরস্পরকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন শেখ হাসিনা-মোদি

একাত্তর নিউজ ডেস্কঃভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা আজ বক্তৃতার সময় বলেন, আপনার জন্মদিনে আপনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। অপরদিকে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিন। এ উপলক্ষে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

 

বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন এবং ঢাকা থেকে টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রতিবেশী দু’দেশের সরকার প্রধান এই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ঢাকায় গণভবন থেকে শেখ হাসিনা এবং নয়া দিল্লিতে নিজের কার্যালয় থেকে মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেনI

উদ্বোধন শেষে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারা। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীজি আপনাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। গতকাল আপনার জন্মদিন ছিলো। আপনি দীর্ঘজীবী হোন।

এরপর নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্য শেষে বলেন, আপনাকেও (শেখ হাসিনা) অগ্রিম শুভেচ্ছা। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আপনার জন্মদিন। এরপরে দুজন একসঙ্গে বলেন, শুভ জন্মদিন।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।  ১৯৫০ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদি।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একজন মহান নেতা: বাণিজ্যমন্ত্রী

একাত্তর নিউজ ডেস্কঃবাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের নেতা নন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি একজন মহান নেতা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বল্পোন্ন দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তিত হয়েছে। বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তিত হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হবে।’

 

সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন কনসার্টের উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাওয়া আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ। এই দেশের অগ্রগতি কেউ রুখতে পারবে না। দেশ গঠনের মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। উন্নয়ন থামিয়ে দেয়া হয়। পিতার অপূর্ণ স্বপ্ন এখন পূরণ করছেন তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা।

সরকারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে বিভিন্ন বয়সের মানুষ উপস্থিত হন। আনন্দঘন হয়ে ওঠেছিল পরিবেশ। অনুষ্ঠান শুরও হয় বিকালে। চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত। স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে সঙ্গে কণ্ঠশিল্পী মমতাজসহ ঢাকা থেকে আসা জনপ্রিয় শিল্পীরা অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

কনসার্টে সাংস্কৃতিক পুরো মাঠ মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। সরকারের জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তৃণমূল পর্যায়ের জনগণকে অবহিত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন বলেই জানিয়েছে আয়োজকরা।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র দেখানো হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগের ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

যাবজ্জীবনের বিধান রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রতিবেদন সংসদে

একাত্তর নিউজ ডেস্কঃবহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর  রিপোর্ট সংসদে দাখিল করেছে সংসদীয় কমিটি।

 

সোমবার জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ।

এই বিল অনুযায়ী অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট ১৯২৩-এর আওতায় যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি কোনো কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক্সের মাধ্যমে তথ্য পাচারের অপরাধ সংঘটন করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে তিনি ১৪ বছর কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

কেন এই আইন করতে হলো- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘সাইবার ক্রাইমের আধিক্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনা ঘটেছে। ফলে এ আইন করার প্রয়োজন হয়েছে। আগে সাইবার ক্রাইমের জন্য কোনও আইন ছিল না। এখন এই জাতীয় সব অপরাধের বিচার এই আইনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনে ডিজিটালের সংজ্ঞা, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব করা, ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। নতুন আইনের ১৭ থেকে ৩৮ ধারায় বিভিন্ন অপরাধ ও শাস্তির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।’

সংগঠনটি রোববার এক বিবৃতিতে  বলেছে, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এবং সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ এ প্রতিবেদনে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। বিলটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকি।

বিলের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সঙ্গীত আ জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনও প্রকার প্রপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা তাতে মদদ দেন তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট আ অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে (ক) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা বলে জানা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত অপমান, অপদস্ত বা হেয়প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন বা (খ) রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ন করার বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর বা তদুদ্দেশ্যে অপপ্রচার বা মিথ্যা বলে জানা থাকা সত্ত্বেও কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে তিনি ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। উক্ত একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

২৫ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক ভয়ভীতি দেখায় তাহলে তাকে তিন বছরের জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।২৮ ধারায় বলা হয়েছে,কেউ যদি ধর্মীয় বোধ ও  অনুভূতিতে আঘাত করে তাহলে তাকে ১০ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

২৮ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করার বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন তাহলে তিনি ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

২৯ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ মানহানিকর কোনও তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে তিন বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

৩০ ধারায় বলা হয়েছে, না জানিয়ে কোনও ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে ব্যাংক-বীমায় ই-ট্রানজেকশন করলে পাঁচ বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

৩১ ধারায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করলে সাত বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

৩২ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনও ধরনের তথ্য উপাত্ত যে কোনও ধরনের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে তাহলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে। এর জন্য ১৪ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারাটিই ডিজিটাল আইনের ৩২ ধারা হিসেবে ফিরে এলো কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না’।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৬২ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, আইসিটি অ্যাক্টের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারা পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হবে।

ধর্মীয় অনুভূতির সংজ্ঞা কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘ পেনাল কোডে ধর্মীয় অনুভূতির যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে সেটা এখানে প্রযোজ্য হবে।’

৫৪ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, ১৭, ১৯, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৬, ২৭, ২৮, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৪ ধারার সব অপরাধ জামিন অযোগ্য।

তবে ৫৪(খ) ধারায় বলা হয়েছে, ২০, ২৫, ২৯ এবং ৪৮ ধারার সব অপরাধ জামিনযোগ্য।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এ আইনে কোথাও কোনও ধারায় সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়নি।’

তবে সম্পাদক পরিষদ তাদের বিবৃতে বলেছে, এই প্রতিবেদন আমরা প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হচ্ছি। কেননা, খসড়া আইনটির ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারায় মৌলিক কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এই ধারাগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকি।

”জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণের কথা বলে বিএনপি দেশের সাথে প্রতারণা করেছে”

একাত্তর নিউজ ডেস্কঃজাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা বলে বিএনপি দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

 

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে জাতিসংঘের একজন সহকারী মহাসচিবের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব দেখা করে দেশে ফেরার পরদিন সোমবার ধানমণ্ডিতে দলের কার্যালয়ে এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এই সফরের বিষয়ে বিএনপি দাবি করেছে, তারা জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন।

কাদের বলেন, “জাতিসংঘের মহাসচিব বিএনপির মহাসচিবকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে তারা প্রচার করেছে; জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিয়ে এ ধরনের ভাঁওতা ও প্রতারণা যারা জাতির সঙ্গে করে, তাদের নিয়ে কী বলব! কী বলব তাদের!

“কোনো আমন্ত্রণ তো নাই, যখন ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিউ ইয়র্কে গেলেন, তখন জাতিসংঘের মহাসচিব ঘানায় একটা প্রোগ্রামে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। যিনি দাওয়াত দিলেন, তিনি ঘানা চলে গেলেন!”

কাদের বলেন, “আমরা যেটা শুনেছি, জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গেইট থেকে বারে বারে অনুরোধ করেছে তারা (বিএনপি)। তাদের বক্তব্য ছিল, যে পর্যায়েই হোক দেখা করিয়ে দিতে। পরে একজন অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি বিরক্ত হয়ে কিছুটা সময় দিয়েছে।”

বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিবের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক এটা তারা চায়। এই কথা তো তারা বলেই আসছে।

“এই কথার জন্য তো ফখরুল ইসলামের নিউ ইয়র্কে যাওয়ার কথা ছিল না, জাতিসংঘের সদর দপ্তরে যাওয়ার কথা ছিল না। এটার জন্য লবিস্ট নিয়োগ করে স্টেট ডিপার্টমেন্টেও যোগাযোগ করেছেন, কোথাও কোনো আমন্ত্রণ তাদের করেনি।”

নির্বাচনের আগে দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপির আন্দোলন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে কাদের বলেন, “২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সালের মতো পেট্রোল বোমার আন্দোলন কি বিএনপি শুরু করবে?

“সেই আন্দোলন যদি তারা করতে যায়, সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে যায়, তাহলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যা যা করণীয়, সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।”

নির্বাচনকে সামনে রেখে কামাল হোসেন, এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর একজোট হওয়ার প্রসঙ্গে কাদের আবারও বলেন, “এটা গণতন্ত্রের ‘বিউটি’।

“কামাল সাহেব বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে তারা নেই। কাদের সিদ্দিকীও বলেছেন একই কথা। এখন নির্বাচনী মেরুকরণে কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়, এটা এই মুহূর্তে বলা খুব মুশকিল।”

তাদের ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ার প্রতিক্রিয়ায় কাদের বলেন, “যারা নিজেদের ঘরের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ নয়, তারা দেশের মধ্যে কীভাবে ঐক্য গড়বেন? এটা একটা প্রশ্ন চিহ্ন রয়ে যায়। তারা নিজেরাই নিজেদের ঘরের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ নয় তারা নিজেরা একে অন্যকে সরকারের দালাল বলে, নিজেদের অফিসে তাদের নিজেদের মধ্যে অনেক সময়ই ঝগড়া-বিবাদে লেগে থাকে।

“বাংলাদেশের সব চাইতে প্রাচীন দল, সবচাইতে জনপ্রিয় দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হবে কেমন করে? সেটা হতে পারে তাদের নিজেদের তথাকথিত জাতীয়তাবাদী জাতীয় ঐক্য।”

”নারী উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর”

একাত্তর নিউজ ডেস্কঃতথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন, নারী উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

 

আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডির স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চারদিন ধরে চলা উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরামের মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পলক বলেন, বর্তমান সরকার নারী উদ্যোক্তাদের পাশে সবসময় আছে এবং থাকবে। উইমেন অ্যান্ড ই কমার্স ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে আইসিটি খাতে নারীদের নিয়ে এবং নারী উদ্যোক্তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন,  ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার উদার মানসিকতার কারণেই আমরা বিশ্বমঞ্চে আজ প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ আজ গর্বিত।’ খবর বাসস।

অনুষ্ঠানে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ফাতিনাজ ফিরোজ, উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আলী নকি, উইমেন এ্যান্ড ই-কমার্স ফোরামের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট নাছিমা আক্তার নিশা, ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্সের সিইও আদিবা রহমান, রেডিও ধ্বনির চেয়ারম্যান ফারহানা চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।
এর আগে বিকেল চারটায় মেলা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। মাই ড্রিম, মাই আইডেন্টিটি। বাসস

দিনাজপুর-শিলিগুড়ি মৈত্রী পাইপ লাইন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

একাত্তর নিউজ ডেস্কঃপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি এবং বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপ লাইনের নির্মাণ কাজ যৌথভাবে উদ্বোধন করবেন মঙ্গলবার।

 

আজ মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টম্বর) দুই প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ দেশের রাজধানী থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া দুই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পৃথক পৃথক প্রকল্পেরও উদ্বোধন করবেন।

সোমবার এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, ভারতীয় এলওসি’র অর্থায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করা হবে।

তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনের অধীন ট্রেন পরিচালনার লক্ষ্যে সেকশনাল ক্যাপাসিটি বৃদ্ধিকরণ এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মিত হলে সমন্বতি ও গতিময় ট্রেন সার্ভিস প্রবর্তনের মাধ্যমে শহরতলী এবং অন্যান্য জেলাসমূহের যাত্রী সাধারণের রাজধানী ঢাকায় স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সময় সাশ্রয়ী যাতায়াত সম্ভব হবে।

প্রকল্পটিতে ভারতীয় এলওসি’র বরাদ্দ ৯০২ কোটি ৬৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা। অপরদিকে বাংলাদেশ সরকার খরচ করবে ২০৪ কোটি ১৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

যাত্রী সাধারণের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিক সংখ্যক ট্রেন চালু করার লক্ষ্যে ঢাকা-টঙ্গি সেকশনে ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। ফলে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

এ প্রকল্পে নির্মিতব্য অবকাঠামোসমূহ রাজধানী ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, টঙ্গী-জয়দেবপুর হয়ে উত্তরাঞ্চল এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল অধিকতর স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও গতিময় করার ক্ষেত্রে ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর ফিডার সেকশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকন্স-কল্পতরু যৌথভাবে কাজটি করবে। চুক্তির মেয়াদ কাজ শুরুর তারিখ হতে ৩৬ মাস।

এতে এমব্যাংকমেন্টসহ ৯৬ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেল লাইন নির্মিত হবে। এ ছাড়া কালভার্ট ২৫টি, প্লাটফর্ম ৬টি, প্লাটফর্ম সেড ৬টি, ফুটওভার ব্রিজ ১২টি, স্টেশন বিল্ডিং ৪টি এবং অন্যান্য পূর্ত কাজ করা হবে।

অপর এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, বর্তমানে আমদানিকৃত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ হতে খালাস করে চট্টগ্রাম ডিপোতে সঞ্চয় করে রাখা হয়। পরে কোস্টাল ট্যাংকে করে খুলনার দৌলতপুর ডিপোতে আনা হয়। সেখানে আনলোড করে আবার রেলের ওয়াগনে আপলোড করে নিয়ে যাওয়া হয় পার্বতীপুরে।

এই প্রক্রিয়ায়, পরিবহণ জনিত সমস্যা, অতিরিক্ত সময় এবং অর্থের অপচয় হয় উল্লেখ করে তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আনলে এ তিনটারই সাশ্রয় হবে। এ ছাড়া, জ্বালানি নিরাপত্তা আরো জোরদার করতে এ পাইপলাইন কার্যকর অবদান রাখবে। পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি সংক্রান্ত ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি গত বছরের ২২ অক্টোবর স্বাক্ষরের পরে চলতি বছরের ৯ এপ্রিলে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। এ পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রথম তিন বছর ২ দশমিক ৫ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এ সরবরাহের পরিমাণ বেড়ে শেষ পাঁচ বছর ৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হবে। বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রয়োজনে জ্বালানি তেলের আমদানি এই পাইপলাইনের মাধ্যমে আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। নুমালীগড় রিফাইনারি ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে ১৫ বছরের জন্য ডিজেল সরবরাহ করবে। উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে এ সময় বর্ধিত করা হবে।

ভারতের শিলিগুড়ি হতে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনে চলতি বছরের আগস্ট-ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ভারত হতে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে আমদানি করা হবে আশা করা হচ্ছে।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সুপারিশ

একাত্তর নিউজ ডেস্কঃপ্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সরকার গঠিত সচিব কমিটি। সরকারি চাকরিতে ৯ম থেকে ১৩ তম গ্রেড পর্যন্ত প্রবেশের ক্ষেত্রে  কোটা রাখার বর্তমান যে নিয়ম রয়েছে তা উঠিয়ে দিতেই এই সুপারিশ করা হয়েছে।

 

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কোটা বাতিল করে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।মন্ত্রিসভার বৈঠক নিয়ে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ তথ্য জানান।

শফিউল আলম বলেন, যে সুপারিশ করা হয়েছে তা মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকে অনুমোদন পেলেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। কোটার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিবেদন আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দিয়েছে কমিটি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম আজ ঢাকায় মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

কোটা বাতিল বা সংস্কারের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল সরকার। কমিটি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার কথা থাকলেও পরে এর মেয়াদ ৯০ দিন বাড়ানো হয়েছিল।

শফিউল আলম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে আদালতের যে রায় আছে তা কোটা সংস্কার বা বাতিলে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে আইন কর্মকর্তারা মত দিয়েছেন।

এর আগে ১৩ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছিলেন, সরকারি চাকরি থেকে প্রায় সব ধরনের কোটা তুলে দিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ করেছেন তারা। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে আদালতের নির্দেশনা থাকায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আদালতের নির্দেশনা নেওয়া প্রয়োজন রয়েছে। তবে তারা সব কোটা বাতিলের পক্ষে।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগের উদ্যোগ

একাত্তর নিউজ ডেস্কঃবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক দুই খুনিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 

সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক অনুষ্ঠানে রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আদালতে সরকার ‍দু’টি মামলা করেছে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

নূর চৌধুরীকে ফেরাতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বরাবর অনলাইন পিটিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘গৌরব ৭১’, ‘কানাডা আওয়ামী লীগ অল ওভারসিস বাংলাদেশি’ এবং ‘মুভমেন্ট ফর ডিপোর্টেশন অব কিলার নূর চৌধুরী টু বাংলাদেশ’ যৌথভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছে।

আইপিটিশন নামের ওয়েবসাইটের https://www.ipetitions.com/petition/petition-for-deportation-of-killer-nur-chowdhury লিঙ্কে অনলাইনে পিটিশন দাখিল করা যাবে বলে জানানো হয় এই অনুষ্ঠানে।

ছয় খুনি এখনও পলাতক থাকার প্রসঙ্গে টেনে কাদের বলেন, ‘এই ছয় জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে আছেন রাশেদ চৌধুরী। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমাদের সহযোগিতা করছে। তাকে ফিরিয়ে আনতে ওখানে একটি মামলা করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।’

তিনি বলেন, ‘তেমনই নূর চৌধুরীর ব্যাপারে কানাডায় একটি আইন আছে, সেটা হলো— কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান সেদেশের আইনে নেই। এই কারণে আইনটিকে শিথিল করে নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কানাডায়ও একটি মামালা করেছে বাংলাদেশ সরকার। কানাডা সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ- আলোচনা অব্যাহত আছে।’

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি বলেন, ‘কানাডার মতো সভ্য দেশে আত্মস্বীকৃত দণ্ডিত খুনির জন্য অভয়ারণ্য হতে পারে না। এই খুনি ও তার দোসররা একটি দেশের জাতির পিতাকে, তার সহধর্মিণীকে ও তার ১০ বছরের শিশু রাসেলসহ ১৮ জন মানুষকে হত্যা করেছে। এই খুনি গত ৪৩ বছর ধরে মুক্ত জীবন-যাপন করছে।’

নূর চৌধুরীর বিষয়ে কানাডা সরকারের কাছে দু’টি দাবি জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এই সভাপতি বলেন, ‘প্রথমত, তারা এই খুনিকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেবেন, যাতে আত্মস্বীকৃত দণ্ডিত খুনির ফাঁসি কার্যকর করা যায় এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কানাডা সরকারের অঙ্গীকার রক্ষা পায়। দ্বিতীয়ত, তাকে যেন স্বাভাবিক মুক্ত জীবন-যাপনের সুযোগ না দেয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আত্মস্বীকৃত খুনি থাকবে জেলে। তার স্বাভাবিক জীবন-যাপন কেন?’

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করে সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিক। দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিরাদীর্ঘদিন বিচার বন্ধ থাকার পর এই হত্যামামলার রায় হয়। আইনি প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচ জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ২০১০ সালে। বাকিদের একজন মারা গেছেন এবং ছয় জন এখনও পলাতক রয়েছেন। এরা হলেন— আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহউদ্দিন। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা আছে।

এদের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায় এবং এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন বলে নিশ্চিত রয়েছে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও  সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন।

কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশের একজন জেনারেল জিয়াউর রহমান, মেজর ডালিমের সঙ্গে দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য করেছিল ‘ওয়েল ডান, মেজর ডালিম; কনগ্রাচ্যুলেশন।’ তার অর্থটা কি? এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তিনিও আছেন।

তিনি বলেন, যে খুনিদের আজকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা কূটনৈতিক প্রয়াস নিয়েছি, এমনকি মামলা পর্যন্ত করতে হচ্ছে সেই খুনিদের নিরাপদে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কে? জিয়াউর রহমান। এই খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিলেন কে? জিয়াউর রহমান। এই খুনিদের বিচার হবে না এই মর্মে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন কে? জিয়াউর রহমান? এবং এই খুনিদের বিচার কাজ বন্ধ করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে পঞ্চম সংশোধনীতে আমাদের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন কে? জিয়াউর রহমান।

ছাত্রদল সভাপতিকে আলিঙ্গন করলেন ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক

একাত্তর নিউজ ডেস্কঃবাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো যখন একে অপরের ছায়া মাড়াতেও ‘অস্বস্তি’ বোধ করেন সেখান এক বিরল দৃশ্যে অবতারণা করলেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান।রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের শীর্ষ দুই ছাত্র সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতা একে অপরকে আলিঙ্গন করলেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পরিবেশ পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে রোববার সকালে রেজিস্ট্রার ভবনে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে ডাকা এই বৈঠকে অংশ নেন ছাত্রদল নেতারাও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে এদিক সকালে রেজিস্ট্রার ভবনে আসেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা।

ঢাবি কর্তৃপক্ষ ডাকসু নির্বাচনের জন্য পরিবেশ পরিষদের বৈঠকের আয়োজন করলে রবিবার রেজিস্ট্রার ভবনে উপস্থিত হন ছাত্রলীগ, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা। বেলা পৌনে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হলে শেষ হয় বিকেল ৪টায়।

যখন ছাত্র সংগঠনের নেতারা বেরোচ্ছেন তখন দেখা গেল বাইরে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী। আর ছাত্রদলের মাত্র ওই দুজন। ছাত্রদলের ওই দুই নেতাকে তখন নিরাপদে বের করার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী। ছাত্রদলের দুই নেতাকে ঘিরে ছাত্রলীগের নেতারা। ছাত্রদলের দুই নেতার মধ্যে ছিল আতঙ্ক। বারবার তারা পেছনের দিকে দেখছিলেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং বিশ্ববিদ্যালয়রে নেতারা ঘিরে রেখেই ছাত্রদলের দুই নেতাকে রেজিস্ট্রার ভবন থেকে বের করে আনলেন।

এরপরই দুই নেতা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে ওই দুই নেতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি অপেক্ষা করছিল। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাত্রদলের নেতাদের বিদায় দিলেন সেখানে।

বিদায়ী আলাপের মধ্যেই ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসানকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী।

এরপরই গাড়িতে উঠে বসলেন ছাত্রদলের নেতারা। বিদায় নেন ক্যাম্পাস থেকে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকের বাছাই

নাশকতার মামলায় খালেদার জামিন প্রশ্নে মঙ্গলবার আদেশ

একাত্তর নিউজ ডেস্কঃকুমিল্লায় নাশকতার মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া ছয় মাসের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন)...